![]() |
| Ajker Media |
মসজিদ, দান ও রাজনীতির প্রশ্নে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া জবাব হুমায়ুন কবিরের
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এক দীর্ঘ ও কড়া রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলেন হুমায়ুন কবির। প্রকাশ্যে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি লুকোচ্ছেন না, বরং বুক ঠুকে তা স্বীকার করছেন।
হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি বিজেপিতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই কথা তিনি একবার নয়, হাজারবার বলবেন। তৃণমূলের চোর ও গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচতেই সে সময় বহু মানুষ বিজেপির দিকে তাকিয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিশক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে হুমায়ুন কবির বলেন, বিজেপি থেকে আসা নেতাদেরই তো তৃণমূল কংগ্রেস রেড কার্পেট পেতে দলে নিয়েছে, টিকিট দিয়েছে এবং বিধায়ক-সাংসদ থেকে মন্ত্রী বানিয়েছে। তিনি শোভন চট্টোপাধ্যায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, এই তালিকা আরও দীর্ঘ।
সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে আসানসোলে দাঙ্গার সময় বাবুল সুপ্রিয়ের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই ঘটনায় এক কিশোর নিহত হয়। তখন যিনি ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ’ ছিলেন, তিনি আজ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হয়ে গেছেন—এটাকেই দ্বিচারিতা বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।
তিনি আরও বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বিজেপির বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বললেও ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। হুমায়ুন কবির স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সঙ্গে এনডিএ জোটে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পরেও নরেন্দ্র মোদীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন এবং তখন তৃণমূলের ধর্মনিরপেক্ষতার অবস্থান কোথায় ছিল, সেই প্রশ্ন তোলেন।
হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি এখন ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি থেকে দাঙ্গাবাজ ও বিতর্কিত নেতাদের দলে এনে মন্ত্রী বানিয়ে আবার মঞ্চ থেকে বিজেপিকে গালাগাল দেওয়া—এই দ্বিচারিতা আর চলবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মসজিদ ও দান প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেরও কড়া বিরোধিতা করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলার মানুষকে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সমাজকে কোরআন বা ধর্ম শেখানোর অধিকার কারও নেই। সংখ্যালঘু সমাজ জানে কোনটা ইমান আর কোনটা অধর্ম।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের হাজার হাজার ক্লাবকে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হলে তখন গরিব মানুষের কথা মনে পড়ে না কেন। সেই টাকা হাসপাতাল বা জনকল্যাণে ব্যবহার করা যেত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, পুজোর অনুদানকে সংস্কৃতি বলা হলেও মানুষ নিজের ধর্মস্থানে দান করলে সেটাকে অপচয় বলা হচ্ছে—এটাই ভণ্ডামি।
গরিব মানুষের প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলার মানুষ আজ গরিব হয়ে আছে শাসক দলের কিছু নেতার দুর্নীতির জন্য। আবাস যোজনার ঘর থেকে কাটমানি নেওয়া কিংবা ১০০ দিনের কাজের টাকা লুট—এই সবের জন্য দায়ী কারা, তা আগে তৃণমূল নেতৃত্বের খতিয়ে দেখা উচিত।
বক্তব্যের শেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সংখ্যালঘু সমাজ কারও দয়ার পাত্র নয়। তারা নিজেদের মসজিদও গড়বে, আবার গরিব মানুষের পাশেও দাঁড়াবে। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের সার্টিফিকেট নিয়ে ধর্ম পালন করবে না। এই ধরনের সস্তা রাজনীতি বাংলার মানুষ বুঝে গেছে এবং আর বোকা বানানো যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
