কোচবিহার জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত সমস্যা ফাঁসিরঘাটে সড়ক সেতু নির্মাণের দাবির যৌক্তিকতা প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন বিজেপির শীর্ষ নেতা। বৃহস্পতিবার কোচবিহারে মিঠুন চক্রবর্তীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিজেপির এক রাজনৈতিক সভায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামানিক এই দাবিকে ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত বলে মেনে নেন।
সভায় নিশীথ প্রামানিক স্পষ্টভাবে বলেন, কাওসার আলম বেপারী সহ ফাঁসিরঘাট সেতু আন্দোলন কমিটির দীর্ঘদিনের দাবি শুধুমাত্র যুক্তিসংগতই নয়, বরং কোচবিহার জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে সভাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।
ফাঁসিরঘাট সেতু নির্মাণের দাবিকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ায় বিজেপি নেতার এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছে নিরপেক্ষ প্রতিবাদী মঞ্চ (নিপ্রম)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতির বক্তব্য, এই সেতু কেবলমাত্র একটি যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রশ্ন নয়, বরং কোচবিহারের হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
নিপ্রম একই সঙ্গে অতীতের একটি ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহার রাসমেলা মাঠে একটি জনসভা করেছিলেন। সেই সময় ফাঁসিরঘাট সেতু আন্দোলন কমিটির সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
নিপ্রমের অভিযোগ, ওই সাক্ষাতের জন্য আগাম সমস্ত ধরনের অনুমতি নেওয়া হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব ও অন্যান্য নেতারা আন্দোলনকারীদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তখনও নিপ্রম প্রকাশ্যে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল বলে জানানো হয়।
নিপ্রমের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, “ফাঁসিরঘাট সেতু নিয়ে রাজনীতি নয়, মানুষের স্বার্থই মুখ্য হওয়া উচিত। কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারই কোচবিহারের মানুষের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসুক।”
ফাঁসিরঘাট সেতু নির্মাণের দাবি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হওয়ায়, আগামী দিনে বিষয়টি কোন দিশায় এগোয়, সেদিকেই এখন নজর কোচবিহারবাসীর।
বিউরো রিপোর্ট — আজকের মিডিয়া
